সান ফ্রান্সিসকোর ‘মামদানি’ হতে চান সৈকত

By স্টার অনলাইন ডেস্ক
14 November 2025, 02:03 AM

ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের পূব উপকূলে, আটলান্টিকের কোলঘেঁষা নিউইয়র্কে। এর প্রভাব চার হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরে গিয়ে পড়লো দেশটির পশ্চিম উপকূলে তথা, প্রশান্তের তীরে। আরেকটু খোলাসা করে বলা যাক—যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শহর নিউইয়র্কে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী জোহরান মামদানি ইতিহাস গড়ে মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় সেই হাওয়ায় আন্দোলিত হয়েছেন সান ফ্রান্সিসকোর অপর ডেমোক্র্যাট নেতা সৈকত চক্রবর্তী।

তাই জোহরান মামদানির বিজয়ের পরদিন ৫ নভেম্বর এক ভিডিও বার্তায় সৈকত চক্রবর্তী মেয়র মামদানিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, 'জোহরান প্রমাণ করেছেন যে ধনকুবেররা কত টাকা আপনার দিকে ছুঁড়ে দিলো তা এখন আর বিবেচ্য নয়। বাস্তবতা হলো—সংগঠিত মানুষেরা সংঘবদ্ধ ধনকুবেরদের পরাজিত করেছে।'

সান ফ্রান্সিসকোর এই ডেমোক্র্যাট নেতার মতে—জোহরান মামদানির বিজয় সম্ভব হয়েছে, কারণ তিনি দৃঢ় ভাষায় পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত সৈকত চক্রবর্তীর জন্ম টেক্সাসে, ১৯৮৬ সালে।

নিজের ওয়েবসাইটে সৈকত জানান, অন্য অনেকের মতো ২০০৯ সালে কলেজ শেষ করে তিনি সান ফ্রান্সিসকোয় এসেছেন। এই সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ারের স্বপ্ন ভিন্ন কিছু করার। তাই সেখানে তিনি নিজের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

২০০৭ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক করেন সৈকত চক্রবর্তী। তিনি নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির সততা, স্পষ্টবাদিতা, গণমুখী ইশতেহার, নির্বাচনী প্রচার কৌশল ও পরিশেষে তার ভোটযুদ্ধে বিজয়ে ভীষণ অনুপ্রাণিত। তিনিও জোহরান মামদানির মতো তার নির্বাচনী এলাকায় পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে জনগণের সামনে আসছেন।

সৈকত চক্রবর্তী সান ফ্রান্সিসকোর বর্ষীয়ান ডেমোক্র্যাট নেতা ও কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি সভার সাবেক স্পিকার ও বর্তমান সদস্য ৮৫ বছর বয়সী ন্যান্সি পেলোসির আসনে নির্বাচন করতে চাচ্ছেন। তিনি কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে ইতিহাস তৈরি করেছেন।

গত ৫ নভেম্বর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক ভিডিও প্রতিবেদনে জানানো হয়, সৈকত চক্রবর্তী যুক্তরাষ্ট্রে বামধারার আন্দোলনে যুক্ত। তিনি প্রখ্যাত সমাজবাদী নেতা ও কংগ্রেসের ইতিহাসে দীর্ঘদিনের স্বতন্ত্র সদস্য বার্নি স্যান্ডার্সের রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনী প্রচারণাতেও যুক্ত ছিলেন।

saikat_2.jpg
নির্বাচনী প্রচারণায় সৈকত চক্রবর্তী। ফাইল ছবি: সংগৃহীত

এ ছাড়াও, সৈকত চক্রবর্তী প্রগতিশীল জাস্টিস ডেমোক্র্যাটস গঠনে মার্কিন কংগ্রেসের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী আইনপ্রণেতা আলেক্সান্ড্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজের সঙ্গে কাজ করেছিলেন।

নিজ দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভিজাত নেতাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সৈকত চক্রবর্তী জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি দলের ভেতর থেকে অভিজাত নেতাদের সরিয়ে দেওয়া কথা বলছেন। এসব অভিজাত ডেমোক্র্যাট নেতাদের মধ্যে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা হাকিম জেফরিসও আছেন।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে প্রশ্নও রাখা হয়—সৈকত চক্রবর্তী কি পরবর্তী জোহরান মামদানি হতে পারবেন?

সৈকত চক্রবর্তীর প্রত্যাশা—কংগ্রেসের সদস্যরা রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বেচ্ছাচারিতাকে এখনই থামানোর ব্যবস্থা নেবেন। এজন্য তাদেরকে সাহসী ও দৃঢ় প্রত্যয়ী হতে হবে। সৈকতের মতে, এমনটি না করা গেলে যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্র ব্যর্থ হবে। সবার ভালোর জন্য গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হবে। সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গণতন্ত্র যেন ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে গণতন্ত্রকে সেই পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে।

তিনি সবার মানবাধিকারকে উচ্চাসনে তুলে ধরতে চান। সব মানুষ, তথা সব ধর্মমতের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে চান তিনি। যুদ্ধবিরোধী মনোভাব প্রকাশ করে সৈকত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এসব মানবাধিকারকে গুরুত্ব দিতে না চায়, তাহলে সান ফ্রান্সিসকো চাপ সৃষ্টি করবে।

saikat_3.jpg
সাধাসিধা জীবনযাপনে অভ্যস্ত নতুন প্রজন্মের ডেমোক্র্যাট নেতা সৈকত। ফাইল ছবি: সৈকতের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া

নিজের ওয়েবসাইটে সৈকত চক্রবর্তী লিখেছেন, 'কংগ্রেসের সদস্য হওয়ার প্রথম দিন থেকে সবার জন্য চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে লড়াই করবো। সবার জন্য বাড়ির ব্যবস্থার পাশাপাশি রাজনীতিতে টাকার খেলা বন্ধ করবো। অতি ধনী ও করপোরেটগুলোর ওপর কর বাড়িয়ে দেবো। এগুলো ছাড়াও অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কাজ করবো।'

গত ৭ নভেম্বর ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনের শিরোনাম করা হয়—'ন্যান্সি পেলোসির দীর্ঘদিনের আসন দাবি করছেন কারা?' এতে বলা হয়, প্রায় ৪০ বছর ধরে কংগ্রেসে সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছেন ন্যান্সি পেলোসি। প্রতিনিধি সভার এই সাবেক স্পিকার সম্প্রতি অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়—পেলোসির সেই আসনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হওয়ার আশা প্রকাশ করছেন দুই নেতা—সাবেক প্রযুক্তিবিদ সৈকত চক্রবর্তী ও ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটর ৫৫ বছর বয়সী স্কট ভেইনার। তারা দুইজনেই প্রার্থিতার প্রচারণা চালাচ্ছেন।

গণমাধ্যমটিকে সৈকত চক্রবর্তী জানান—তার প্রার্থিতার প্রচারণা শুরুর পর থেকে মাঠ পর্যায়ে 'দুই হাজারের বেশি' স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। এটি সান ফ্রান্সিসকোর ইতিহাসে 'অনন্য' বলে মন্তব্য করেছেন এই নেতা।

website.jpg
সৈকতের নির্বাচনী ওয়েবসাইটের স্ক্রিণশট

আবার ফিরে আসা যাক সৈকত চক্রবর্তীর সেই ভিডিও বার্তায়। তিনি মনে করেন—কেউ যদি প্রকৃতঅর্থেই পরিবর্তন চান তাহলে যে বিষয়টির ওপর জোর রাখতে হবে তা হলো— সাহসী পরিবর্তনের পথে এগিয়ে যাওয়া। কোনো সমাজমাধ্যমের প্রভাব নয় বা কোনো নির্বাচনী কৌশল নয়—পরিবর্তনের ডাক জোরালো কণ্ঠে দিতে হবে।

'সান ফ্রান্সিসকোতে আমরা তাই করতে চাই,' বলে নিজের দৃঢ়তা প্রকাশ করেন সৈকত চক্রবর্তী।