‘গিলকে বিশ্রাম দিয়ে পরীক্ষিতদের সুযোগ দিন’
ভারতের টেস্ট ও ওয়ানডের অধিনায়কত্ব পাওয়া শুভমান গিলকে টি-টোয়েন্টিতে ফিরিয়ে করা হয় সহ-অধিনায়ক। তবে কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে গত এশিয়া কাপ থেকে ফিরে একের পর এক ব্যর্থতায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছেন তিনি। কেবল নামের জোরে তাকে খেলিয়ে পরীক্ষিতদের উপেক্ষা করার সমালোচনা করলেন সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ কাইফ।
গত বছর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে পাঁচ ইনিংসে তিন সেঞ্চুরি করে রেকর্ড গড়েছিলেন সঞ্জু স্যামসন। অভিষেক শর্মার সঙ্গে ভারতের সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ওপেনিংয়ে হয়ে পড়েছিলেন থিতু। কিন্তু গত এশিয়া কাপ থেকে শুভমান গিলকে ফিরিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয় স্যামসনকে।
স্যামসনকে প্রথমে নিচের দিকে ব্যাট করতে দেওয়া হলেও এখন একাদশেই রাখা হচ্ছে না। চলতি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচে বেঞ্চে বসে পার করেছেন স্যামসন। এদিকে গিল ওপেন করতে নেমে এক ম্যাচে ৪, আরেক ম্যাচে ফেরেন খালি হাতে।
টি–টোয়েন্টিতে একের পর এক ব্যর্থতার পরও গিলকে সমর্থন দেওয়ায় টিম ম্যানেজমেন্টের সমালোচনা করেছেন কাইফ । একই সঙ্গে তিনি স্যামসনকে টি–টোয়েন্টি দলে আরও সুযোগ দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুই টি–টোয়েন্টিতে গিল কম রানে আউট হওয়ার পরই কাইফের এই মন্তব্য আসে। কটকে প্রথম ম্যাচে তিনি মাত্র ৪ রান করেন, আর নিউ চণ্ডীগড়ে দ্বিতীয় ম্যাচে গোল্ডেন ডাক মারেন ডানহাতি এই ব্যাটার।
এর আগে সেপ্টেম্বরে, এশিয়া কাপ ২০২৫ সামনে রেখে ২৬ বছর বয়সী গিল আবার টি–টোয়েন্টি দলে ফেরেন। তাকে সহ-অধিনায়ক করা হয় এবং সঞ্জু স্যামসনের জায়গায় ওপেনিংয়ে অভিষেক শর্মার সঙ্গে জুটি বাঁধেন। তবে ২০২৫ সালে টি–টোয়েন্টিতে ১৪ ইনিংস ব্যাট করে এখনো কোনো অর্ধশতক না করতে পারায় দলে তার জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ইউটিউবে নিজের চ্যানেলে কথা বলতে গিয়ে ক্রিকেটার থেকে ধারাভাষ্যকারে রূপ নেওয়া কাইফ বলেন, 'এখনই টি–টোয়েন্টি থেকে গিলকে বিশ্রাম দিয়ে প্রমাণিত খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার উপযুক্ত সময়। গত বছর সঞ্জু স্যামসন তার ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ করেছেন এবং দলে জায়গা পাওয়ার যোগ্য।'
'ও যেভাবে আউট হচ্ছে তা দেখুন—স্লিপে ক্যাচ, সামনে বেরিয়ে গিয়ে টাইমিং ভুল করা, অভিষেক শর্মার মতো আক্রমণাত্মক শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেওয়া। সে সবই চেষ্টা করেছে। আমার মনে হয়, এখন তাকে বিশ্রাম দেওয়ার সময় এসেছে এবং প্রমাণিত খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়া উচিত।'
স্যামসন মূলত টপ অর্ডারের ব্যাটার। আগ্রাসী শুরুর জন্য তিনি খ্যাত। এশিয়া কাপে স্যামসনকে খেলানো হয় নিচের দিকে। গিলের জন্য পজিশন হারিয়ে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ পাননি ডানহাতি ব্যাটার। পরে কিপার জিতেশ শর্মার কাছে একাদশেও হারান জায়গা।
কাইফের মতে স্যামসনের সঙ্গে নায্য আচরণ করছে না ভারতের টিম ম্যানেজমেন্ট, 'সঞ্জু স্যামসন একজন উচ্চমানের খেলোয়াড়; সে পর্যাপ্ত সুযোগ পায়নি। এখানে দ্বিমুখী মানদণ্ড থাকা উচিত নয়। আগেও সহ-অধিনায়করা দল থেকে বাদ পড়েছে। দলের স্বার্থে যদি গিলকে বিশ্রাম দিয়ে অন্য কাউকে আনা হয়, এতে কোনো ভুল নেই।'
গুঞ্জন আছে গিলকে তিন সংস্করণের নেতৃত্ব দিয়ে সেভাবে পোট্রে করতে চায় বিসিসিআই। সেকারণে তাকে সহ-অধিনায়ক করা হয়েছে টি-টোয়েন্টিতে। আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর তিন সংস্করণেই অধিনায়কত্ব করতে পারেন তিনি। তবে এসবের আগে তাকে রান পেতে হবে।
স্যামসন ছাড়াও ওপেনিংয়ে যশস্বী জয়সওয়ালের মতো খেলোয়াড়দের উপেক্ষা করায় ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত প্রশ্নবিদ্ধকরেন কাইফ। জয়সওয়ালের রেকর্ডও দারুণ। মাত্র ২৩ ম্যাচ খেলে একটি সেঞ্চুরি, ৫টি ফিফটি করেছেন বাঁহতি ব্যাটার। ব্যাটিং গড় ৩৬.১৫, স্ট্রাইক রেট ১৬৪.৩১।
কাইফ বলেন, 'এখন মনে হচ্ছে পরিবর্তনের সময় এসেছে। আপনি জয়সওয়ালের মতো খেলোয়াড়কে বাদ দিয়েছেন, সঞ্জু স্যামসনকে ধারাবাহিক সুযোগ না দিয়ে বেঞ্চে বসিয়ে রেখেছেন—যখন সে ওপেনার হিসেবে দারুণ রান করেছিল। পাঁচ টি–টোয়েন্টি ইনিংসে সে তিনটি সেঞ্চুরি করেছে, যা ইতিহাসে আর কেউ পারেনি।'
'কিছু খেলোয়াড় খুব কম সুযোগ পায়, আর কিছু খেলোয়াড়কে দীর্ঘ সময় দেওয়া হয়, কারণ আপনি তাদের দলে স্থায়ী করতে চান। বিষয়টি স্পষ্টই বোঝা যায়। কিন্তু এখন চাপ এতটাই বেড়েছে যে কোথাও না কোথাও পরিবর্তন আনা দরকার।'